জামাল হোসেন,বেনাপোল থেকে৷৷ যশোরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা দুবর্ৃত্তদের হাতে নৃসংশভাবে খুন হয়েছেন৷ নিহত ইদ্রিস আলী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন৷ শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রামনগর পিকনিক কর্নারের কাছে দুর্বৃত্তরা গুলি করে ও বোমা হামলা চালিয়ে ইদ্রিস আলীকে হত্যা করে৷ এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার ইদ্রিস আলীর লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, থানা ঘেরাও, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করা হয়৷ সমাবেশ থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে অপসারণ ও ৭২ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের আটক দাবি করা হয়েছে৷ নিহত ইদ্রিস আলী রামনগর পিকনিক কর্নার এলাকার সদর আলীর ছেলে৷ যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন জানান, ঘটনার রাতে ইদ্রিস আলী পাশর্্ববতর্ী বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন৷ পথিমধ্যে পিকনিক কর্নারের কাছে পেঁৗছলে ওঁত্ পেতে থাকা ৮-১০ জনের সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দল তার ওপর হামলা চালায়৷ এ সময় সন্ত্রাসীরা তার বুক লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা হামলা চালায়৷ পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দুবর্ৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়৷ স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার আগেই তিনি মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়েন৷ রাতে এ খবর শুনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু, উপজেলা কমিটির সভাপতি মোফিজুর রহমান ডাবু, জাহাঙ্গীর হোসেন খোকা ও রিমন খানসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকমর্ী হাসপাতালে ছুটে যান৷
ইদ্রিস হত্যার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকমর্ীরা শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরে লাশ নিয়ে মিছিল করেন৷ এরপর তারা কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন৷ এখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবলীগ সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, আজাহার উদ্দিন স্বপন, আলাউদ্দিন মুকুল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের এনামুল কবির, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লুত্ফুল কবীর বিজু প্রমুখ৷ সমাবেশে বক্তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল জলিল ও ৭২ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, এর ব্যত্যয় হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে৷ এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একই দাবিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা যশোর-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন৷ এ সময় সড়কের দু'পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে৷ পরে বিকাল ৩টায় সহকারী পুলিশ সুপার (ক' সার্কেল) নাইমুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে খুনিদের আটকের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়৷
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ইদ্রিস আলী ইটভাটায় মাটি সরবরাহের ঠিকাদারি কাজে নিয়োজিত ছিলেন৷ ২০ দিন আগে এই মাটি সরবরাহ নিয়ে অন্য একজনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়৷ এছাড়া কিছুদিন আগে তিনি বাড়ির কাছে এক খণ্ড জমি ক্রয় করেন৷ এ নিয়েও তার এক প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া হয়৷ ফলে ইদ্রিস আলী হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এ দুটি ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন৷ তবে ইদ্রিসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শেখ ইমামুল কবির জানান, ইদ্রিসের সঙ্গে কারও বড় রকমের কোন বিরোধ কিংবা শত্রুতার ঘটনা তার জানা নেই৷ কেননা বরাবরই তিনি ঝামেলা এড়িয়ে চলতেন৷ ইদ্রিস আলী মৃতু্যকালে স্ত্রী ও ৩ পুত্রসন্তান রেখে গেছেন৷ কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল জলিল জানান, জমি কেনা নিয়ে একজনের সঙ্গে শত্রুতা ছিল বলে শোনা গেছে৷ ফলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে৷ কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ৷ #
|