জামাল হোসেন, বেনাপোল থেকে৷৷ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ২০১১-১২ অর্থবছরে ভারতে পণ্য রফতানি বেড়েছে৷ আগের অর্থবছরের তুলনায় এবার ২৯১ দশমিক শূন্য ৮ কোটি টাকার অতিরিক্ত পণ্য রফতানি হয়েছে৷ বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে৷ এ দিকে বেনাপোল বন্দরের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে বাংলাদেশ থেকে রফতানি করা পণ্য বহনকারী ট্রাক লোড-আনলোড করার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এক সপ্তাহ ধরে বেনাপোল বন্দরে পণ্যজট দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন৷
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৯৮ দশমিক ২২ টন পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছিল, যার বিপরীতে ২ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৮ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়৷ ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪০ দশমিক ১৭ টন পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৮৮ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা৷
২০১১-১২ অর্থবছরের জুলাইয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে ৩৫ হাজার ৩৫৯ দশমিক ১৬ টন পণ্য রফতানি থেকে ২০৪.৫৩ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়৷ এ ছাড়া আগস্টে ৩২ হাজার ১০০ দশমিক ১৭ টনের বিপরীতে ২০৯.৩২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ৪১ হাজার ২৭৪ দশমিক শূন্য ৪ টন রফতানির বিপরীতে ২৯৭.০২ কোটি, অক্টোবরে ২৭ হাজার ৮২৫ দশমিক ৮৪ টন রফতানি থেকে ২০১.১৭ কোটি, নভেম্বরে ৩০ হাজার ৬৫২ দশমিক ৮৭ টন রফতানি থেকে ১৭৭.৫০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬ হাজার ৮৪ দশমিক ৯৩ টন রফতানি থেকে ১৫২.৭৪ কোটি, জানুয়ারীতে ৪৩ হাজার ৯৭০ দশমিক শূন্য ৩ টন রফতানি থেকে ২২২.২১ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৫৪ হাজার ৯৭৫ দশমিক ৩৬ টন রফতানি থেকে ৩০৯.২৩ কোটি, মার্চে ৪৯ হাজার ১৬৩ দশমিক ৭৯ টন রফতানি থেকে ২৮১.১৯ কোটি, এপ্রিলে ৫২ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৬৪ টন রফতানি থেকে ২৮৩.৪৫ কোটি, মে মাসে ৩৮ হাজার ৮০৯ দশমিক ৯৬ টন রফতানি থেকে ১৮৯.২৩ কোটি এবং জুনে ৩১ হাজার ৪৩৭ দশমিক ৩৮ টন পণ্য রফতানি থেকে আয় হয় ১৩৮.২৯ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা৷ ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে জায়গা সংকুলান হলে আরও অনেক বেশি পণ্য রফতানি সম্ভব হতো বলে মনে করেন আমদানিকারকরা৷
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী জানান, আগে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন ৭০-৮০ ট্রাক পণ্য ভারতে রফতানি হতো৷ বর্তমানে প্রায় ২০০-২২০ ট্রাক পণ্য রফতানি হচ্ছে৷ কিন্তু ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে জায়গা সংকটের কারণে রফতানি বাধাগ্রসত্ম হচ্ছে৷ রফতানির অপোয় একটি ট্রাক ৮-১০ দিন বন্দরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে৷
বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, আমাদের রফতানি প্রবণতা বেশ বেড়েছে৷ সামপ্রতিক সময়ে বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি পণ্য রফতানি হচ্ছে৷ জাতীয় পর্যায়ে উত্পাদন সমতা বৃদ্ধি পাওয়া আমাদের রফতানি বাড়ার মূল কারণ৷
সূত্র জানায়, ২০০১ সালে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়৷ বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কলকাতার দূরত্ব ৮৪ কিলোমিটার হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি রফতানির ৭০ ভাগ বেনাপোল দিয়ে সম্পন্ন হয়৷ বেনাপোল স্থলবন্দরে গড়ে তোলা হয় বিশাল অবকাঠামো৷ বর্তমানে ৬০ একর জমির ওপর ৪২টি শেড, ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড ও একটি ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে৷ বর্তমানে এ বন্দরের পণ্য ধারণমতা ৪০ হাজার টন ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে একসঙ্গে ৩৬০টি ট্রাক থেকে পণ্য লোড-আনলোড করা যায়৷ একসঙ্গে ভারতীয় ৬০০ ট্রাক পার্কিং করার ধারণমতাসম্পন্ন একটি বৃহত্ ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে৷ আমদানিকৃত পণ্য রাখার ট্রাক টার্মিনালে ১৫০টি ট্রাক একসঙ্গে রাখা যায়৷ বছরে ১৪ লাখ টনের বেশি আমদানি-রফতানিকৃত পণ্য হ্যান্ডলিং হচ্ছে এ বন্দরে৷
অন্যদিকে বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে বাংলাদেশ থেকে রফতানিকৃত পণ্য বোঝাই ট্রাক পার্কিংয়ের জন্য তেমন কোনো জায়গা নেই৷ পেট্রাাপোল বন্দরের সেন্ট্রাল ওয়ার হাউস করপোরেশনে শুধু পাট ও পাটজাত দ্রব্য লোড-আনলোডের অনুমতি থাকায় অন্যান্য পণ্য লোড-আনলোডের কোনো জায়গা নেই৷ জায়গার অভাবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে নো-ম্যান্স-ল্যান্ডেই হচ্ছে বাংলাদেশী ট্রাক থেকে পণ্য আনলোড৷ এ নো-ম্যান্স-ল্যান্ডে একসঙ্গে ২০টি ট্রাক লোড-আনলোড করা যায়৷ ফলে বেনাপোল বন্দরে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পণ্যজট৷ ১ হাজারের বেশি রফতানি পণ্য বোঝাই বাংলাদেশী ট্রাক ভারতে প্রবেশের অপোয় বেনাপোল বন্দরে দাঁড়িয়ে আছে৷ ফলে বন্দর এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পণ্যজট৷ #
|