জামাল হোসেন, বেনাপোল থেকে।।প্রতি বছর ঈদ খুশির বার্তা নিয়ে হাজির হয়। ঈদকে আনন্দময় করতে নতুন পোশাক আর নানা রকম সাজসজ্জা কিনতে সকলেই ছুটে যায় মার্কেট গুলোতে। তেমনি এবারের ঈদেও এর কমতি নেই। ছোট বড় সকলেই এখন যশোরের মার্কেট গুলোতে ভিড় করছে পছন্দের পোশাকটি কিনতে। বিশেষ করে মেয়েদের বিভিন্ন রকম ছিট-কাপড় বেশী বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা। তবে ক্রেতারা দাবি করেছেন গতবারের তুলনায় এবার ছিট-কাপড়ের দাম বেশি। গতকাল যশোরের এইচএমএম রোড, কাপুড়িয়াপট্টি, সিটি প্লাজা, জেস টাওয়ার, কালেক্টারেটসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে দেশী-বিদেশী নানা প্রকার ছিট কাপড় এবার ঈদ উপলক্ষে মার্কেটে উঠেছে। এসব ছিট-কাপড়ের দাম গজ প্রতি গত বছরের তুলনায় ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন ঈদের জন্য দাম বাড়েনি। অনেক আগেই সুতার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এসব কাপড়ের দাম বেড়েছে। বাজারে দেশী ভয়েল কাপড় বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে প্রকার ভেদে ৬০ টাকা। যা গত বছর ছিল ৪৪/৪৫ টাকা। পাকিজা প্রিন্ট থ্রি পিচের কাপড় প্রতি গজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে শুরু করে ৭০ টাকা পর্যন্ত। যা গত বছর দাম ছিল ৫৫/৬০ টাকা। দেশী পপলিন কাপড় প্রতি গজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে। যা ৬ মাস আগেও বিক্রি হয়েছে ৪৪/৪৫ টাকা। এ দিকে ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া টরে কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ১শ’২০ থেকে ১শ’৩০ টাকার মধ্যে। গতবছর এ কাপড় বিক্রি হয়েছে ১শ’ থেকে ১শ’ ১০ টাকা পর্যন্ত। তবে এ কাপড় গুলো ছেলেদের শার্ট বা পাঞ্জাবি তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। চায়না সুতি কাপড় প্রতিগজ বিক্রি হচ্ছে ২শ’ ১০ থেকে ২শ’ ৩০ টাকা পর্যন্ত। এ ছিট-কাপড় গত বছর দাম ছিল ১শ’৭০ থেকে ১শ’ ৮০ টাকায়। ধুপিয়ান কাপড় প্রতিগজ পাওয়া যাচ্ছে ৫০ টাকায়। যা গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৪২/৪৫ টাকা। জর্জেট দেশী ছাপা কাপড় বিক্রি হচ্ছে প্রতিগজ ৯০ টাকা থেকে প্রকার ভেদে ৯৫ টাকা। গত বছর ছিল ৭৫/৮০ টাকা। এ ছাড়া কাতান, চিনন প্রিন্ট, টিস্যু প্রিন্ট, প্রিন্ট জর্জেট, জর্জেট ওয়েটলেস্ কাপড় গুলো বিক্রি হচ্ছে প্রতি গজ ২শ’ থেকে ২শ’ ৫০ টাকা। তবে দোকানীরা বলেছেন এ কাপড়ের দাম বাড়েনি। আবার কয়েকজন ক্রেতা বলেছেন দাম না বাড়লেও মান মনে হচ্ছে এবার একটু কম।
এইচএমএম রোডের মামুন ট্রেডার্সের বিক্রয় কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান, কাপড়ের দাম একটু বেড়েছে। তার কারণ কয়েক মাস আগে সুতার দাম বেড়েছে।
শহরের পালবাড়ি থেকে আসা তাহসিন আক্তার বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও ছিট-কাপড় কিনছি তবে এবার সব কাপড়ের দাম একটু বেশি।
অনেকেই বলেছেন, দাম যাই হোকনা কেন নতুন কাপড় ছাড়া কী ঈদের আনন্দ হয়। এ জন্য ছোট বড় সকলেই নতুন পোশাক কিনতে প্রতিদিন শহরের মার্কেট গুলোতে ভিড় করেছে।
|