জামাল হোসেন, বেনাপোল থেকে৷৷ দেশের একমাত্র সর্ববৃহত্ স্থলবন্দর বেনাপোলে ভারতে রপ্তানির অপোয় শতশত পন্য বোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে আছে বন্দর এলাকায়৷ ফলে বেনাপোল বন্দরে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দু দেশের মধ্যে আমদানি রফতানি বানিজ্য৷ ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে স্থান সংকটের কারনে এ ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে৷ এ কারনে মোটা অংকের আর্থিক তির শিকার হচ্ছে বাংলাদেশী রপ্তানীকারকরা৷ ফলে রপ্তানী বানিজ্যে আগ্রহ হারাচ্ছে ব্যবসায়ীরা৷ হঠাত্ করে এ বন্দর দিয়ে রফতানি বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে৷
বেনাপোল কাস্টমস'র যুগ্ম কমিশনার আকবর হোসেন জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন ৪/৫শ' ট্রাক পণ্য আমদানী হচ্ছে এবং রফতানি হচেছ ২/৩'শ ট্রাক পন্য৷ রফতানিকৃত পন্যের মধ্যে রয়েছে, পাট ও পাটজাত পন্য, সাদা মাছ, ইলিশ মাছ, ঝুট, সুপারী, রাইস ব্রান, সাবান, মেহগনি ফল, মশারীর কাপড়, টি শার্ট উল্লেখযোগ্য৷ প্রতিদিন বেনাপোল বন্দরে ভারতে পন্য রফতানি নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে সংঘর্ষ নিত্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে৷
কিনত্ম ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে স্থান সংকটের কারনে ১২৫ থেকে ১৩০ ট্রাক পন্য ভারতে রপ্তানী হচ্ছে৷ বাকী ট্রাক বেনাপোল বন্দর এলাকা ও রাসত্মার উপর যত্রতত্র রাখায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের৷ রপ্তানী পন্য নিয়ে আসা ট্রাক চালকদের পন্য খালাশের জন্য অপো করতে হচ্ছে ১০/১৫ দিন পর্যনত্ম৷ সেেেত্র দুর-দুরানত্ম থেকে আসা আটকা পড়া ট্রাক চালকরা আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে৷ এদিকে রপ্তানীকারকরাও ট্রাক ভাড়া তিপুরন দিয়ে আর্থিক তির সম্মুখীন হচ্ছে৷ ফলে রপ্তানী বানিজ্যে আগ্রহ হারাচ্ছে এসব ব্যবসায়ীরা৷
গত ২০১১-১২ অর্থ বছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে ৪ লাখ ৬৪ হাজার মে: টন বাংলাদেশী পন্য রফতানি করে ২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে৷ গত ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৯৮ মে: টন পন্য রপ্তানি করে ২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা আয় হয়েছিল৷ বেনাপোলে একটি পূর্নাঙ্গ ট্রাফিক ইউনিট না থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি প্রক্রিয়া৷
রপ্তানীকারক প্রতিষ্টান মেসার্স কপোতী এজেন্সির সত্বাধীকারী মশিউর রহমান জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর রপ্তানী বেড়ে গেছে৷ ভারতে যে পরিমান পন্য রপ্তানী হচ্ছে সে তুলনায় পেট্রাপোল বন্দরে অবকাঠামগত উন্নয়ন না হওয়ার কারনে রপ্তানী বানিজ্য ব্যাহত হচ্ছ৷ রপ্তানী পন্য বন্দরে প্রবেশের পর বন্দর কতৃপরে নিয়ন্ত্রনে থাকলেও ভারতে প্রবেশের েেত্র তা নিয়ন্ত্রন করে ট্রাক শ্রমিকরা ৷ বেনাপোল কাষ্টম কার্গো শাখার সুপারিনটেনডেন্ট ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, এ বন্দর দিয়ে অধিক পরিমানে রপ্তানীর সম্ভাবনা থাকলেও ভারতের পেট্রাপোল অংশে জায়গা সংকটের কারনে তা সম্ভব হচ্ছেনা৷ রপ্তানী পন্য নিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ শত ট্রাক বেনাপোল বন্দরে আসলেও ভারতে রপ্তানী হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ ট্রাক৷ অথচ আমদানী পন্য ঢুকছে ৪'শ থেকে ৫'শ ট্রাক৷ তাদের সাথে বারবার এ ধরনের সমস্যার কথা তুলে ধরলেও তা সমাধানের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না তারা৷
বেনাপোল স্থল বন্দর পরিচালক আব্দুল আউয়াল হাওলাদার বলেন, প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২ 'শ ট্রাক পন্য রফতানি হচ্ছে ভারতে৷ তবে বন্দর এলাকায় ৪/৫'শ ট্রাক আটকা থাকায় ভয়াবহ যানজট হচ্ছে বন্দর এলাকায়৷ ভারতে স্থান সংকটের কারনে বাংলাদেশী পণ্য রফতানি বাধা গ্রস্থ হচ্ছে৷ বেনাপোল বন্দর সংলগ্ন বাইপাশ সড়কটি নির্মান কাজ দ্রত সম্পন্ন হলে বাংলাদেশী পন্য দ্রত রফতানি করা সম্ভব৷ বেনাপোল বন্দরে ভারতের সাথে আমদানী রপ্তানীর জন্য দুটি রোড থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর বাংলাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগে একটি মাত্র সড়ক ব্যবহার করায় রপ্তানী কযর্্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে৷
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের মুখে বাশকল বসিয়ে রফতানি মুখি ট্রাকের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রন করে লট আকারে পন্য চালান বন্দরে প্রবেশের ব্যবস্থা করলেই এই মুহুর্তে রফতানি বাড়বে এবং বন্দরে যানজট নিরসন দ্রত সম্ভব হবে ৷ #
|