জামাল হোসেন, বেনাপোল থেকে।। যশোরের শার্শা-বেনাপোল সীমান্তপথে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে মাদকের চালান অবাধে সীমান্ত পেরিয়ে দেশের ভেতরে প্রবেশ করছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। ঈদ উপলক্ষে মাদক ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য মজুদ করতে শুরু করেছেন।
সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা মাদক পাচার কাজে চোরাকারবারীদের সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা সীমান্ত এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক দ্রব্য ভারত থেকে এনে দেশের ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় চালান করছে। জানা গেছে, মাদক চালানের জনপ্রিয় পথ শার্শা-বেনাপোল সীমান্তের পুটখালী, গাঁতিপাড়া, ভুলোট, সাদিপুর ও লঘুনাথপুর ঘাট। ভারতের চব্বিশ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্ত এলাকায় গড়ে উঠেছে শত শত মাদক তৈরির কারখানা। বিভিন্ন এলাকায় ফসলের বদলে ব্যাপক হাড়ে গাঁজার চাষ হচ্ছে। দু’দেশের মাদক প্রতিরোধকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থা চোরাচালান প্রতিরোধে দফায় দফায় পতাকা বৈঠক করছেন। তার পরও মাদক পাচার বন্ধ হচ্ছে না।
এদিকে, পাচার হয়ে আসা নকল মাদক সেবন করে স্কুল-কলেজের ছাত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী নারী, পুরুষ এমনকী প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন। জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ কিলোমিটার সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত থেকে আসছে ফেনসিডিল, কোরেক্স, গাঁজা ও হেরোইন। ভারতের বঁনগাও, গাইঘাটা ও মুর্শিদাবাদ এলাকায় গড়ে উঠেছে ফেনসিডিল, কোরেক্স ও গাঁজার আস্তানা। এখানে নকল ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য তৈরি করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিজিবি বেনাপোল বিওপি সদর ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আইয়ুব আলী জানান, মাদক পাচার কাজে তাদের কোনো সহযোগিতা নেই। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক রয়েছে। এবিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবি’র এক কর্মকর্তা জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতা না পাওয়ায় মাদক প্রতিরোধে তাদের তেমন সফলতা আসছে না। রয়েছে লোকবলের স্বল্পতা।
|