|
জামাল হোসেন, বেনাপোল থেকে।। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ইমদাদুল হক ইমদাদ এর বিরুদ্ধে মনিরামপুর উপজেলার খাটুরা গ্রামের এক চাকুরী প্রার্থীর কাছ থেকে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে গত এক বছর ধরে প্রতারনা করার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযাগকারী খাটুরা গ্রামের আব্দুল কাদেরের পুত্র ইব্রাহীম কবীর স্বহস্তে লিখিত এক পত্রে উল্লেখ করেছেন, ইমদাদুল হক ইমদাদ গত ২০১১ সালের জুলাই মাসে ঝিকরগাছার শহীদ মশিয়ুর রহমান ডিগ্রি কলেজের সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে চাকুরী পাইয়ে দেওয়ার নামে মনিরাপুর উপজেলার খাটুরা গ্রামের ইব্রাহিম কবীর এর নিকট থেকে তিন কিস্তিতে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা নেয়। ধূর্ত ইমদাদ টাকা নেওয়ার সময় এ ক্ষেত্রে চাকুরী প্রত্যাশী ইব্রাহিম কে আশ্বস্ত করেন যে, শহীদ মশিয়ুর রহমান ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হলো এমপি মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, আর এমপির পিএ ডালটন আমার বন্ধু। এছাড়া মিসেস এমপির সাথেও নাকি তার ভাল সম্পর্ক। তাই এখানে চাকুরী করে দেওয়া তার জন্য খুবই সোজা। ইমদাদুল হক ইমদাদের এমন লোভনীয় প্রস্তাবে আশস্ত হয়ে অসহায় ইব্রাহিম তাকে উল্লেখিত টাকা দিয়ে দেয় সরল বিশ্বাসে। গত ১ বছরেও প্রতারক ইমদাদ চাকুরী প্রত্যাশী ইব্রাহিম কে চাকুরী পাইয়ে দিতে না পারায় ইব্রাহিম দিশেহারা হয়ে পড়ে। সম্প্রতি এমপির পিএ ডালটন বাড়ীতে আসলে ইব্রাহিম তার সাথে দেখা করে ইমদাদের টাকা নেওয়া ও এমপি পরিবারের নাম ভাঙাগানোর বিষয়টি বলে। গত ২১ জুলাই ডালটন ঝিকরগাছার অর্নব সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ইমদাদের ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রুপান্তর কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে প্রতারনার স্বীকার ইব্রাহিম কে নিয়ে ইমদাদের মূখোমুখি হয়। এসময় ডালটন ক্ষিপ্ত হয়ে এভাবে তার ও এমপি পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারনার কারন জানতে চাইলে ইমদাদ, ডালটন এর হাতে-পায়ে জোরে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইতে চেষ্টা করে। ডালটন আবারো রাগান্বিত হয়ে এমপির নিকট ফোন করে বিষয়টি জানাতে গেলে ইমদাদ ডালটনের হাত খামচে দিয়ে মোবাইল কেড়ে নেয়। এ ঘটনায় ডালটন হাতে সামান্য জখম প্রাপ্ত হয়ে তার বন্ধু কবীর কে সাথে নিয়ে উপজেলার হাসপাতাল মোড়স্থ সালমা কিনিকের ঔষধের দোকানে যেয়ে চিকিৎসা হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে। এ ব্যাপরে এমপির পিএ ডালটনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমার ও এমপি পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারনার কারনে ইমদাদের বিরদ্ধে খুব শীগ্রই মামলা করবো। এদিকে ইমদাদের প্রতারনা ফাঁস হওয়ার পর তার চাকুরী গেলে সেও উপজেলা পরিষদে তার চাকুরী দেওয়ার জন্য কত টাকা দিতে হয়েছে এমন তথ্য ফাঁস হতে পারে এমন আশংকায় এ বিষয়টি জানার পরও পরিষদের কেউ ইমদাদের বিরদ্ধে টু-শব্দটিও করছেন না।
|