|
জামাল হোসেন, বেনাপোল থেকে।। যশোরে পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না কৃষকরা। পাট কেটে যারা আমন চাষ করতে চেয়েছিলেন তাদের পাট শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোনো রকম জাগ দিতে পারলেও তা সরকার ঘোষিত মূল্যের অর্ধেকেও বিক্রি হচ্ছে না।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার যশোর জেলায় ২২ হাজার ৯০৬ হেক্টরে পাটের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ৯৭ হেক্টরের। ৮ হাজার ১৯১ হেক্টরে চাষ কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক শেখ হেমায়েত হোসেন জানান, এবার পাট বোনার সময় এপ্রিল ও মে মাসে খরা ছিল বলে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এ ছাড়া গত বছর দাম সন্তোষজনক না থাকায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কম ছিল।
ঝিকরগাছার নওদাপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, দুই মাস টানা খরায় মাটিতে রস ছিল না। এ ছাড়া তীব্র তাপে (ওই সময় তাপমাত্রা ৪০-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল) ব্যাপকহারে পাটের কচি চারা শুকিয়ে নষ্ট হয়েছে। এ অবস্থা থেকে পাট রক্ষা করতে কৃষকরা সেচ দেন। এ কারণে এবার উত্পাদন খরচ বেশি পড়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, বিঘায় উত্পাদন খরচ পড়েছে ১২ হাজার টাকা। কিন্তু যশোর জেলায় সাধারণত বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট হলেও এবার হয়েছে ছয়-সাত মণ। ভরা বর্ষা মৌসুম হলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় যশোর জেলায় পানি নেই। ফলে সমস্যা হচ্ছে পাট জাগ দিতে।
আমন রোপণে বিলম্ব হচ্ছে বলে যারা পাট কেটেছেন তাদের পাট জাগ দিতে না পারায় শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের মাসুম মোল্লা জানান, তিনি এবার ১০ বিঘা জমির মধ্যে তিন বিঘা জমির পাট কেটেছেন। পানির অভাবে তা জাগ দিতে না পারায় শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রিবন রেটিংয়ের মাধ্যমে পাট জাগ দেয়ার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সরকার পাটের মণপ্রতি সর্বনিম্ন দাম ২ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার বেশি দাম কোনো ব্যবসায়ী দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা।
|